১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ তহবিল গঠন, কৃষক পযাের্য় সুদ সবোর্চ্চ ৮ শতাংশ

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অথর্নীতিতে কমর্সংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅথার্য়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অথার্য়নে গঠিত পাঁচ বছর মেয়াদি এই তহবিলের আওতায় কৃষক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ গত সোমবার রাতে একটি পরিপত্র জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নিবার্হীদের কাছে পাঠিয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, প্রকৃত চাষি, ÿুদ্র ও প্রান্ত্মিক কৃষক, বগার্চাষি এবং নারী কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হবে। কৃষকদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অথবা সরকারের কৃষক কাডর্ ব্যবহার করা হবে। জামানত ছাড়াই ঋণ সুবিধা: নতুন স্কিমের আওতায় ÿুদ্র ও প্রান্ত্মিক কৃষকেরা শস্য ও ফসলের দায়বদ্ধতার বিপরীতে কোনো ধরনের স্থাবর জামানত ছাড়াই সবোর্চ্চ ৫ লাখ টাকা পযর্ন্ত্ম ঋণ নিতে পারবেন। নারী ও প্রান্ত্মিক কৃষকদের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তির পরিবতের্ ব্যক্তিগত বা দলভিত্তিক সামাজিক জামানত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে কোনো ব্যাংক বা আথির্ক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি ব্যক্তি এই স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবেন না। এছাড়া এই ঋণের অথর্ পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। একজন গ্রাহক সবোর্চ্চ তিনবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। বিভিন্ন খাতে ঋণের সীমা নিধার্রণ: স্কিমের আওতায় কৃষি ও পলিস্ন অথর্নীতির বিভিন্ন খাতে ঋণ বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সবোর্চ্চ ১ কোটি টাকা, শস্য ও ফসল উৎপাদনে সবোর্চ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষিযন্ত্রপাতি ক্রয়ে সবোর্চ্চ ২০ লাখ টাকা, আয়বধর্ক কমর্কা- ও অন্যান্য পলিস্ন ঋণে সবোর্চ্চ ১৫ লাখ টাকা, ঋণের অথর্ সবোর্চ্চ পাঁচ একর জমিতে কৃষিকাজ পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। কৃষক পযাের্য় সুদ ৮ শতাংশ: বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে অথর্ সরবরাহ করবে। ব্যাংকগুলো কৃষক বা গ্রাহক পযাের্য় সবোর্চ্চ ৮ শতাংশ সরল সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও মুনাফার হার ৮ শতাংশের বেশি নিধার্রণ করা যাবে না। পুনব্যর্বহারযোগ্য তহবিল: ১০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল পুনব্যর্বহারযোগ্য (রিভলভিং) ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অথার্ৎ, ঋণের কিস্ত্মি আদায়ের মাধ্যমে ফেরত আসা অথর্ পুনরায় নতুন ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। ব্যাংকগুলোর বাষির্ক কৃষিঋণ বিতরণের সক্ষমতা ও চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তহবিল বরাদ্দ করবে। বরাদ্দ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে সংশিস্নষ্ট ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। ১৮ মাসে ঋণ পরিশোধ: কৃষক পযাের্য় ঋণ পরিশোধের সবোর্চ্চ মেয়াদ হবে ১৮ মাস। খাতভেদে সবোর্চ্চ তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডও দেওয়া হবে। তবে কৃষকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের সম্পূণর্ দায়িত্ব সংশিস্নষ্ট বিতরণকারী ব্যাংকের ওপরই থাকবে। কৃষক ঋণ পরিশোধ করম্নক বা না করম্নক, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া অথর্ ব্যাংকগুলোকে নিধাির্রত সময়ের মধ্যে সুদাসলে ফেরত দিতে হবে। অনিয়মে জরিমানার বিধান: পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক যদি নিধাির্রত ৮ শতাংশের বেশি সুদ আদায় করে বা তহবিলের অপব্যবহার করে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করবে। এছাড়া নিধাির্রত সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অথর্ ফেরত না দিলে সংশিস্নষ্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাব থেকে অথর্ সমন্বয় করে নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, নতুন এই পুনঃঅথার্য়ন তহবিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অথর্নীতির সম্প্রসারণ এবং দেশের বিস্ত্মৃত জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরম্নত্বপূণর্ ভূমিকা রাখবে।

Share it :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *