রাজধানীর মিরপুরের পলস্নবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধষের্ণর পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদ- সংক্রান্ত্ম ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোটের্ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিচারিক আদালত থেকে এ নথি হাইকোটের্ পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরম্নর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কাযির্বধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদ- কাযর্কর না হওয়া পযর্ন্ত্ম গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। একইসঙ্গে ফৌজদারি কাযির্বধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোটর্ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদ- কাযর্কর হবে। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে সংশিস্নষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে ওই অথর্ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারদের প্রদানের নিদের্শ দেওয়া হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী নিধাির্রত সময়ের মধ্যে হাইকোটর্ বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকা-ের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৫ মে মামলার তদন্ত্ম কমর্কতার্ পলস্নবী থানার উপ-পরিদশর্ক অহিদুজ্জামান আদালতে চাজির্শট দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবতীর্ বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১ জুন আসামিদের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরম্ন হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কাযির্বধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়। ১৯ মে রামিসাকে ধষের্ণর পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয় এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুলস্না থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রামিসার বাবা পলস্নবী থানায় মামলা করেন। ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ভিকটিম রামিসার বাবা পরিবারের সঙ্গে পলস্নবীর সেকশন-১১, বস্নক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করতেন। রামি-সা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষাথীর্ ছিল।


